CallAdoctorbd

১-৬ বছরের শিশুদের খাদ্য-অভ্যাস,জীবন-ব্যবস্থা ,রোগ এবং তা প্রতিরোধের উপায়

  • 25 Jul 2020
  • 0 Comments
  • Disease

একটি শিশু একটি জাতির ভবিষ্যৎ।জন্মের পর থেকে ৬ বছরের ভিতর একটি শিশুর মানসিক বিকাশ সবচেয়ে বেশি ঘটে থাকে।এই সময় তাই একটি শিশুর পুষ্টিকর খাবার এবং সুষ্ঠ জীবন ব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আজ আমরা কথা বলব ১-৬ বছরের শিশুদের খাদ্য-অভ্যাস,জীবন-ব্যবস্থা ,রোগ এবং তা প্রতিরোধের উপায় নিয়ে।

১।খাদ্য-অভ্যাস ঃ বাড়ন্ত শিশুদের বয়স উপযোগী পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে।অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানদের মায়ের দুধের পাশাপাশি কখন ও কীভাবে সম্পূরক খাবার দিতে হয় সে বিষয়ে সঠিক তথ্য পান না। অথচ শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশের সময় পুষ্টিহীনতা এড়াতে এটা খুবই জরুরি বিষয়।

পুষ্টিকর উপাদান নিশ্চিত করা এবং শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য শিশুকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত অবশ্যই মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ হলে তাকে সিরিয়াল এবং শাকসবজি ও ডিমের মতো পারিবারিক খাবার চটকে খাওয়াতে হবে। দুই বছর বয়স পর্যন্ত শিশুকে অন্যান্য পারিবারিক খাবারের পাশাপাশি মায়ের দুধ খাইয়ে যেতে হবে।৬ মাস থেকে দুই বছর বয়স পর্যন্ত যে খাবার গুলো শিশুকে দিতে পারেন তা হল মিষ্টি কুমড়া,মিষ্টি আলু,ঢেঁড়স সবুক শাকসবজি,ডিম,খিরুরী,ভাত খাবার গুলো অবশ্যই চটকে খাওয়াতে হবে। ২ বছরের পর শিশুকে একটু একটু কবে ফ্যামেলিফুড দিতে হবে।পরিবারের সবাই যা খায় তাকেও তাই খাওয়ানোর অভ্যাস করতে হবে। এই সময় শিশুর হাতে একটা দুটা ফল দিতে হবে তাকে নিজের হাতে খাওয়ার জন্যে উৎসাহিত করতে হবে কারণ এই সময় নিজের হাতে খাবার খাওয়া না শিখলে তার ভিতরে নিজ হাতে খাবার গ্রহণের অভ্যাসটা গড়তে উঠতে পরে অনেক সময় লাগতে পারে।শিশুকে প্রতিদিন সঠিক সময়ে ৩ বেলা খাবার খাওয়াতে হবে এবং দিনে ২ বার নাস্তা দিতে হবে ।সময়মতো পরিপূরক খাবার দেওয়া শুরু করা থেকে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়বার করে খাওয়ানো এবং খাবার তালিকায় কী কী ভিন্নতা আনা উচিত সে বিষয়ে বাবা-মার জ্ঞান রাখতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে শিশু যেন খাবার থেকে পরিপূর্ণ পুষ্টি পাই । শিশুকে অবশ্যই প্যাকেটজাত খাবার যেমন, চিপস,বিস্কুট,কোমল পাণীয় এগুলো থেকে বিরত রাখতে হবে।

২।জীবন-ব্যবস্থা ঃ জীবন-ব্যবস্থা নির্ভর করে খাদ্য গ্রহণ,অভ্যাস এবং ঘুমের সমষ্টির উপর। এর মধ্যে ঘুম অন্যতম। ১-৬ বছরের শিশুদের ঘুমের প্রতি মায়েদের বিশেষ নজর রাখা উচিত। সঠিক ভাবে শিশুর ঘুম না হলে তা শিশুর নানাবিধ সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশন বা এনএসএফ বলছে প্রত্যেকের লাইফ স্টাইলই আসলে তার ঘুমের চাহিদা বুঝতে মূল ভূমিকা পালন করে থাকে।

• নবজাত শিশু : (৩ মাস পর্যন্ত) ১৪ থেকে ১৭ ঘণ্টা। যদিও ১১ থেকে ১৩ ঘণ্টাও যথেষ্ট হতে পারে। তবে কোন ভাবেই ১৯ ঘণ্টার বেশি হওয়া উচিত নয়।

• শিশু (৪ থেকে ১১ মাস) : কমপক্ষে ১০ ঘণ্টা আর সর্বোচ্চ ১৮ ঘণ্টা।

• শিশু (১/২ বছর বয়স):১১ থেকে ১৪ ঘণ্টা

• প্রাক স্কুল পর্ব (৩-৫ বছর বয়স): বিশেষজ্ঞরা মনে করেন ১০ থেকে ১৩ ঘণ্টা।

• স্কুল পর্যায় ( ৬-১৩ বছর) : এনএসএফ’র পরামর্শ ৯-১০ ঘণ্টার ঘুম

শিশুদের এই ঘুমের সময় মেনে চলার জন্যে অভিভাবকদের তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়া অভ্যাস করে হবে এবং সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতে হবে। সঠিক ঘুম এবং সঠিক খাদ্যভাসই পারে একটি শিশুকে সঠিক জীবন-ব্যবস্থা দিতে।

৩.রোগ এবং তা প্রতিরোধের উপায় ঃ ১ থেকে ৬ বছরের শিশুদের যেসকল রোগ গুলো দেখা দেয় তার ভিতর অন্যতম হল, প্রোজেক্টাইল বমি,গ্যাসষ্টিক,বদহজম,পেটের ব্যাথ্যা,কোষ্ঠকাঠিন্য,ডাইরিয়া, ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন-ডি এর অভাব সমূহ। আসুন জেনে নেই উক্ত রোগের প্রতিরোধে আমাদের করণীয় ঃ

#প্রোজেক্টাইল বমি ঃ আপনার শিশু যখন তার পেটের ভিতরের খাবার জোর করে বাইরে এনে দেয়, তখন এটি প্রোজেক্টাইল বমি হিসাবে পরিচিত। যদিও পরিমাণটি বেশি বলে মনে হচ্ছে, বমিতে সাধারণত আপনার শিশুর খাওয়া শেষ খাবার থাকে। এই জাতীয় বমি মাঝে মধ্যে হতে পারে তবে এটি প্রতিটি ফিডের পরে ঘটলে উদ্বেগের বিষয় হতে পারে।শিশুরা বমি করে সাধারণত বমি করে পেতে থাকা গ্যাসের কারণে এই জন্যে প্রতি ফিডের পর তাকে ঘাড়ে নিয়ে তার পিছে ২-৩ টা বারী দেওয়া উচিত। ঘরোয়া প্রতিকারে আপনি শিশুকে লবণ এবং চিনির মিশ্রণ:পানি খাওয়াতে পারেন এছাড়াও খাওয়াতে পারেন পেঁপে,পেঁয়াজের রস, জিরা,আপেল সিডার ভিনেগার,পুদিনা,আদা,ভাতের জল। যদি বমি বন্ধ না হয় সেই সাথে বমিতে পিত্ত বা রক্ত থাকে,অনিয়ন্ত্রিত রিচিং এবং গ্যাগিং হয়,পেট ব্যথা করে,তবে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারকে কল করা উচিত।

#গ্যাসষ্টিক বা পেটে ব্যাথ্যা ঃ গ্যাসষ্টিক বা পেটে ব্যাথ্যা ৬ মাস থেকে ২ বছর শিশুর একটি কোমন সমস্যা।৬ মাস থেকে ২ বছর বয়সে শিশুর পেটে গ্যাসের পরিমান অনেক বেশি থাকে এবং মায়ের দুধ সেবনের পর তাকে যখন আস্তে আস্তে সম্পূরক খাবার দেওয়া হয় তখন তার এই গ্যাসষ্টিকের সমস্যা টা বেশি দেখা দেয়। এছাড়াও ২-৬ মাসের বাচ্চাদের ভিরত এই সমস্যা বিদ্যমান। বদহজম থেকেই মূলত এই গ্যাসের সমস্যা হয়। প্রতিকারের উপায় ঃ

গরম তোয়ালার সেক:- একটি তোয়েলা কুসুম গরম জলে ভিজিয়ে নিন। তোয়ালে থেকে ভাল করে জল বের করুন। এবার এটি শিশুর পেটে উপরে রাখুন। এটি শিশুর বদহজমজনিত ব্যথা দূর করে দেয়। তবে অব্যশই লক্ষ্য রাখবেন তোয়ালা যেন বেশি গরম না হয়।

ব্যায়াম করান:- ব্যায়াম শব্দটি শুনে ঘাবড়ে গেলেন? ভাবছেন এত ছোট শিশুকে কীভাবে ব্যায়াম করাবেন? শিশুর পা দুটি সাইকেল চালানোর মত আগা পিছনে করুন। এটি শিশুর পেটে চাপ সৃষ্টি করবে, যা গ্যাস বের করতে সাহায্য করে। এক ঘন্টা পর পর এটি করুন। এছাড়া শিশুর পেটে হালকা হাতে ম্যাসাজ করুন। শিশুকে উপর করে পিঠেও আলতো ম্যাসজ করতে পারেন। এটিও শিশুর পেট থেকে গ্যাস বের করে দিবে।

#কোষ্ঠকাঠিন্য ঃ ১-৬ বছরের শিশুদের কোষ্ঠকাঠিন্য একটি কোমন রোগ। এটি বিরক্তিকর ও যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা। অনেকের টয়লেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়, কিন্তু পেট পরিষ্কার হয় না। এ নিয়ে অস্বস্তিতে ভোগেন তাঁরা। মলত্যাগ যদি সপ্তাহে তিনবারের কম অথবা পরিমাণে খুব কম হয়, অনেকক্ষণ ধরে চেষ্টা করেও মলত্যাগ না হয়, অথবা মল অস্বাভাবিক রকমের শক্ত বা শুকনো হয়, তাহলে তাকে কোষ্ঠকাঠিন্য বলে। বিভিন্ন কারণে এ সমস্যা দেখা দেয়। তবে অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস কোষ্ঠকাঠিন্যের পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করে। তাই এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।শিশুদের ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিলে যা করবেন ঃ

#প্রতিদিন শিশুকে প্রচুর পানি ও তরল এবং যথেষ্ট আঁশযুক্ত খাবার খওয়ানো। গোটা শস্য, শাকসবজি, ফলমূল যেমন বেল, পেঁপে ইত্যাদি হলো আঁশযুক্ত খাবার।

# শিশুকে যত দূর সম্ভব মল চেপে না রাখার অভ্যাস করতে বলা।

# ইসবগুলের ভুসি, অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর মতো ঘরোয়া টোটকাও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমাধানে বেশ কাজে আসে।শিশুকে এগুলো খাওয়ানো।

এতেও উপকার না পেলে চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক ওষুধ সেবন বা ব্যবহার করতে হবে ।

এছাড়াও শিশুদের অনেক সময় ডাইরিয়া, ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন-ডি এর অভাব দেখায় উক্ত সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে এবং শিশুকে সম্পূরক পুষ্টিকর খাদ্য দিতে হবে।

আমাদের লেখাটি যদি আপনাদের একটুও ভালো লেগে থাকে এবং তা আপনার কোন উপকারে আসে তবে লেখাটি শেয়ার করে বাকিদের মাঝে ছড়িয়ে দিন ।

আপনার শিশুর যেকোন সমস্যা বা রোগের লক্ষণ দেখা দিলেই আতংকিত না হয়ে আমাদের কল করুন :

☎ ০১৮৩৩৭৭৫৪৭৫

☎ ০১৮৮৬৩৫৭৭৩৩

সময় : ???? সকাল ১০:০০ টা থেকে সন্ধ্যা ৭:০০ টা পর্যন্ত।

তাছাড়া Call A Doctor BD এর জেনেরাল সার্ভিসগুলো এক নজরে,
১) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের টেলিমেডিসিন
২) বাসা থেকে বিভিন্ন টেষ্টসমূহের নমুনা সংগ্রহ
৩) মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় কাউন্সেলিং
৪) নিউট্রিশান ও ডায়েট চার্ট

তাছাড়া Call A Doctor BD এর প্রিমিয়াম সার্ভিসগুলো এক নজরে,
১) বাসায় ডাক্তার ভিজিট
২) এল্ডারলি কেয়ার
৩) নার্সিং কেয়ার

ডাক্তার সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন-
https://bit.ly/2Mo1RgT

Facebook: www.facebook.com/CallaDoctorBD/
LinkedIn: www.linkedin.com/company/call-a-doctor-bd/
Youtube: www.youtube.com/channel/UCh9dsl9XDn3fvsQtzDYkFng
Website: www.calladoctorbd.com

Share the post

About Author

Admin

Call A Doctor BD in short CAD BD is a healthcare start up which is planning to introduce first 360° healthcare in Bangladesh. In addition, COVID-19 pandemic actually showed us the real scenario of healthcare infrastructure of our country. Everything is going digital, CAD BD aims to provide digital healthcare with some premium home services for the customers.

Comments (0)

Leave Comment