CallAdoctorbd

গ্লকোমা কি? কেন হয় এবং এর থেকে বাঁচার উপায় গুলো কি কি?

  • 25 Jul 2020
  • 0 Comments
  • Disease

গ্লকোমা কি? কেন হয় এবং এর থেকে বাঁচার উপায় গুলো কি কি?

চোখকে বলা হয় মনের আয়না। শুধু তাই নয়, চোখ মানবদেহ নামক বিচিত্র ঘরের জানালাও বটে। পৃথিবীর যত রঙ, রূপ, আলো এই জানালা দুটো দিয়েই ভেতরে প্রবেশ করে, আমাদের চমৎকৃত করে। তাই এদের কোন অসুখ মানুষকে যতটা বিপর্যস্ত করে, অন্য আর কিছুই হয়তো ততটা নয়।

চোখ অনেকটা ক্যামেরার মত। এতে দু’টো চেম্বার বা ভাগ রয়েছে, এছাড়াও আছে চোখের নিজস্ব তরল এবং সমস্ত তথ্য মস্তিষ্কে পরিবহনের জন্য অপটিক নার্ভ। আমরা যা কিছু দেখি সবই এই প্রতিটি উপাদানের নিখুঁত সমন্বয়ের ফল। এর কোথাও কোন গরমিল হওয়া মানেই দৃষ্টিশক্তিতে ব্যাঘাত ঘটা আর এরকমই একটি রোগের নাম গ্লকোমা। আজ আমরা জানব গ্লকোমা কি ? কেন হয় এবং এর থেকে বাঁচার উপায় গুলো কী কী

গ্লকোমা কি?

গ্লকোমা নিয়ে আমাদের এখন অনেক কথা হচ্ছে। গ্লকোমা শব্দটার কোনো বাংলা নেই। তাই বুঝতে একটু অসুবিধা হয়। আসলে এটি এরকম একটি রোগ যেখানে চোখের প্রেশার বেশি থাকে, এই প্রেশারের সঙ্গে ধীরে ধীরে চোখের অপটিক নার্ভ আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে যায়। রোগী এক সময় চিরতরে অন্ধ হয়ে যায়। যেহেতু গ্লকোমা রোগে তেমন কোনো লক্ষণ রোগী বুঝতে পারে না, এ জন্যই আমরা একে বেশি ভয় পাই। যদি সহসা কেউ অন্ধ হয় না, সে জন্য গ্লকোমা রোগের সচেতনতা বাড়ানো দরকার। এটা বোঝা দরকার যে গ্লকোমা রোগে চোখের প্রেশার বেশি থাকে। ব্লাড প্রেশার যেমন হয়, চোখেরও প্রেশার রয়েছে।

ফুটবলের ভেতরে যেমন প্রেশার থাকে, তেমনি চোখেরও প্রেশার থাকে। ফুটবলে যে প্রেশার না দিলে বলটা চুপসে যায়, আবার প্রেশার বেড়ে গেলে সমস্যা হয় তেমনি। ব্লাড প্রেশার যেমন মাপতে হয়, তেমনি নিয়মিত চোখের প্রেশারও মাপা দরকার। তো ব্লাড প্রেশার তো নিয়মিত মাপা যায়, যেহেতু নিজে নিজে মেশিন দিয়ে মাপা যায়। তবে চোখের প্রেশার মাপতে একটু চোখের চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়। তো আমি বলি যে বছরে অন্তত একবার পরীক্ষা করা উচিত, যাদের বয়স ৪০ বা চল্লিশের কাছাকাছি হয়ে গেছে তাদের। সারা দেশে যে গবেষণা রয়েছে, তাতে চল্লিশের ওপর যাদের বয়স, তাদের অন্তত এক দশমিক দুই ভাগ মানুষ গ্লকোমা রোগে আক্রান্ত।

গ্লকোমা বা নিঃশব্দ অন্ধত্বের প্রধান কারণ গুলো কী কী

এ রোগের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া না গেলেও অদ্যাবধি চোখের উচ্চচাপই এ রোগের প্রধান কারণ বলে ধরে নেয়া হয়। তবে স্বাভাবিক চাপেও এ রোগ হতে পারে। সাধারণত চোখের উচ্চচাপই ধীরে ধীরে চোখের স্নায়ুকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং দৃষ্টিকে ব্যাহত করে। তবে কিছু কিছু রোগের সঙ্গে এ রোগের গভীর সম্পর্ক লক্ষ করা যায় এবং অন্যান্য কারণেও এ রোগ হতে পারে। যেমন-

পরিবারের অন্য কোনো নিকটাত্মীয়ের (মা, বাবা, দাদা, দাদি, নানা, নানি, চাচা, মামা, খালা, ফুপু) এ রোগ থাকা।

১. উচ্চবয়স (চল্লিশোর্ধ্ব)।

২. ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ।

৩. মাইগ্রেন নামক মাথাব্যথা।

৪. রাত্রিকালীন উচ্চরক্তচাপের ওষুধ সেবন।

৫. স্টেরোইড নামক ওষুধ দীর্ঘদিন সেবন করা।

৬. চোখের ছানি অপারেশন না করলে বা দেরি করলে।

৭. চোখের অন্যান্য রোগের কারণে।

৮. জন্মগত চোখের ত্রুটি ইত্যাদি।

এগুলোর মধ্যে শুধু চোখের উচ্চচাপই ওষুধ দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, যা গ্লকোমা রোগের প্রধান কারণ বলে মনে করা হয়। যেহেতু এই রোগ নীরব ঘাতক, যার উপসর্গ বোঝা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না, সেহেতু ৫০ শতাংশ আক্রান্ত ব্যক্তিই বুঝতে পারে না তার গ্লকোমা হয়েছে এবং ধীরে ধীরে তিনি অন্ধ হয়ে যাচ্ছেন। এ জন্য প্রতি বছর অন্তত একবার একজন ৪০ বছর ঊর্ধ্ব মানুষ যদি বিশেষজ্ঞের কাছে চোখ পরীক্ষা করান, তা হলে গ্লকোমা রোগে চোখ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগেই তাকে প্রতিরোধ করতে পারবেন।

গ্লকোমার লক্ষণ গুলো কি কি?

আপনি কি জানেন গ্লকোমা অন্ধত্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কারণ? ৪.৫ মিলিয়ন মানুষ সারা বিশ্বে গ্লকোমাজনিত রোগে অন্ধ এবং ২০২০ সালে এর সংখ্যা হওয়ার কথা ১১.২ মিলিয়ন। ২০৪০ সালে গিয়ে দাঁড়াবে ১১১.৪ মিলিয়ন।অনেক ক্ষেত্রেই রোগী এ রোগের কোনো লক্ষণ অনুধাবন করতে পারেন না। চশমা পরিবর্তনের সময় কিংবা নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষার সময় হঠাৎ করেই চিকিৎসক এ রোগ নির্ণয় করে থাকেন। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিম্নের লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে। যেমন-

১. ঘন ঘন চশমার গ্লাস পরিবর্তন হওয়া।

২. চোখে ঝাপসা দেখা বা আলোর চারপাশে রংধনুর মতো দেখা।

৩. ঘন ঘন মাথাব্যথা বা চোখে ব্যথা হওয়া।

৪. দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে কমে আসা বা দৃষ্টির পারিপার্শ্বিক ব্যাপ্তি কমে আসা। অনেক সময় চলতে গিয়ে দরজার পাশে বা অন্য কোনো পথচারীর গায়ে ধাক্কা লাগা।

৫. মৃদু আলোয় কাজ করলে চোখে ব্যথা অনুভূত হওয়া।

৬. ছোট ছোট বাচ্চার অথবা জন্মের পর চোখের কর্নিয়া ক্রমাগত বড় হয়ে যাওয়া বা চোখের কর্নিয়া সাদা হয়ে যাওয়া, চোখ লাল হওয়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া ইত্যাদি।

গ্লকোমার প্রতিকারে আমাদের করনীয় কি?

অন্ধত্ব একটি অভিশাপ। গ্লকোমাজনিত অন্ধত্বের কোনো প্রতিকার নেই; প্রতিরোধই একমাত্র উপায়। সারা বিশ্বে প্রায় ৮০ মিলিয়ন লোক অন্ধ। গ্লকোমাজনিত অন্ধ লোকের সংখ্যা প্রায় ৮ মিলিয়ন। এর এক বিরাট অংশ রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ায়।গ্লকোমা রোগ সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে এক বিরাট জনগোষ্ঠী অপরিবর্তনযোগ্য অন্ধত্বের শিকার হন; যা প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করতে পারলে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

১. চিকিৎসক রোগীর চক্ষু পরীক্ষা করে তার চোখের চাপের মাত্রা নির্ণয় করে তা নিয়ন্ত্রণের জন্য যে ওষুধের মাত্রা নির্ধারণ করে দেবেন, তা নিয়মিত ব্যবহার করা।

২. দীর্ঘদিন একটি ওষুধ ব্যবহারে কার্যকারিতা কমে যেতে পারে বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে, তাই নিয়মিত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া।

৩. সময়মতো চোখের বিভিন্ন পরীক্ষা (যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে) করে দেখা যে, তার গ্লকোমা নিয়ন্ত্রণে আছে কি না।

৪. পরিবারের সবার চোখ পরীক্ষা করে গ্লকোমা আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া।

সর্বোপরি মনে রাখতে হবে, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা। ঠিকমতো ওষুধ ব্যবহার করে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চললে একজন গ্লকোমা রোগী তার স্বাভাবিক দৃষ্টি নিয়ে বাকি জীবনটা সুন্দরভাবে অতিবাহিত করতে পারেন।

পরিশেষে মনে রাখবেন, গ্লকোমা অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ; যার কোনো প্রতিকার নেই। প্রতিরোধই একমাত্র উপায়। চল্লিশোর্ধ্ব বয়সে আপনার চক্ষু পরীক্ষা করে চোখের চাপ জেনে নিন।

চক্ষু চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হোন, আপনার বা পরিবারের কারও গ্লকোমা আছে কি না। গ্লকোমা প্রতিরোধ করুন, অন্ধত্বের অভিশাপ থেকে বেঁচে থাকুন। আপনার পরিবারের সবাইকে নিয়ে, সুন্দর দৃষ্টিশক্তি নিয়ে, পৃথিবীর সৌন্দর্য উপভোগ করুন।

গ্লকোমার যে কোন লক্ষণ দেখা দিলে জরুরী ভিত্তিতে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে এবং পরিক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হবে। আর এখন আপনি চাইলে বাসায় বসেই আপনার যে কোন রোগের চিকিৎসা নিতে পারেন এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে পারেন। Call A Doctor BD আপনাকে দিচ্ছে সেই সকল সুবিধা সমূহ।
আমাদের বিশেষজ্ঞ,

Dr. Muntasir Bin Shahid

MBBS,MS,ICO-Fellow,

PHACO-Fellowship, Glaucoma-Fellowship

Assistant Professor-Ophthalmology (BIHS)

BMDC Reg No: A 43092

Specialty: Eye Specialist, Glaucoma, Lasar & PHACO Surgeon

অ্যাপয়েন্টমেন্ট নাম্বার,
☎ ০১৮৩৩৭৭৫৪৭৫
☎ ০১৮৮৬৩৫৭৭৩৩

সময় : ???? সকাল ১০:০০ টা থেকে সন্ধ্যা ৭:০০ টা পর্যন্ত।

তাছাড়া Call A Doctor BD এর জেনেরাল সার্ভিসগুলো এক নজরে,
১) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের টেলিমেডিসিন
২) বাসা থেকে বিভিন্ন টেষ্টসমূহের নমুনা সংগ্রহ
৩) মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় কাউন্সেলিং
৪) নিউট্রিশান ও ডায়েট চার্ট

তাছাড়া Call A Doctor BD এর প্রিমিয়াম সার্ভিসগুলো এক নজরে,
১) বাসায় ডাক্তার ভিজিট
২) এল্ডারলি কেয়ার
৩) নার্সিং কেয়ার

ডাক্তার সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন-
https://bit.ly/2Mo1RgT

Facebook: www.facebook.com/CallaDoctorBD/
LinkedIn: www.linkedin.com/company/call-a-doctor-bd/
Youtube: www.youtube.com/channel/UCh9dsl9XDn3fvsQtzDYkFng
Website: www.calladoctorbd.com

Share the post

About Author

Admin

Call A Doctor BD in short CAD BD is a healthcare start up which is planning to introduce first 360° healthcare in Bangladesh. In addition, COVID-19 pandemic actually showed us the real scenario of healthcare infrastructure of our country. Everything is going digital, CAD BD aims to provide digital healthcare with some premium home services for the customers.

Comments (0)

Leave Comment