CallAdoctorbd

স্ট্রেস কমাতে কি কি করতে পারি আমরা?

  • 06 Aug 2020
  • 0 Comments
  • Disease

স্ট্রেস কি?

স্ট্রেস এক ধরনের শারিরীক, মানসিক ও আবেগ সংক্রান্ত ফ্যাক্টর যা শারিরীক কিংবা মানসিক টেনশনের সৃষ্টি করে। স্ট্রেস কথাটি আজকাল প্রায় সব ক্ষেত্রেই বহুল-ব্যবহৃত (আর কিছুক্ষেত্রে অতিরিক্ত ও ভুলভাবে ব্যবহৃত) হলেও স্ট্রেস-কে শব্দের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা একটু হলেও কঠিন কাজ। আমাদের অবশ্যই মনে রাখা দরকার, রোজকার কাজের চাপ আর স্ট্রেস আলাদা — বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রোজকার টুকিটাকি চাপকে কিন্তু স্ট্রেস বলে না। কোনো চাপকে স্ট্রেস হিসেবে গণ্য করতে হলে সেটা একটা মাত্রা ছাড়াতে হয়।

স্ট্রেস-এর বিভিন্ন মাত্রাকে বিজ্ঞানী গিলিয়ার্ড সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন। যেমন:

# যে যে কারণে স্ট্রেস হতে পারে (Input function): কর্মক্ষেত্রের চাপ, যেমন, কম সময়ে বেশি কাজ করা, কাজে নির্ভুল থাকার চাপ, প্রতিকূল পরিবেশে কাজ বা তীব্র মানসিক আঘাত/অশান্তির মধ্যে কাজ।
# স্ট্রেস-এর কারণে যা যা হতে পারে (Output function): ব্যক্তির নিজস্ব অনুভব (যা ব্যক্তিবিশেষে বিভিন্ন রকম হতে পারে) ও তার আচরণে বদল।
# তাতে মনের উপর প্রভাব: এটি স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্নরকম হতে পারে।
# স্ট্রেস-এর ফলে কোনো মানুষের কার্যক্ষমতার উপর প্রভাব: যা গুণগত এবং পরিমাণগত, উভয়ভাবেই কমতে থাকে।


স্ট্রেস এর ফলে যে সমস্যা গুলো হয়ে থাকে ঃ 

আগামীতে পৃথিবী বেশ কিছু আনন্দ ও সম্ভাবনার সাথে সাথে বোধহয় অনেক বেশি সমস্যা ও বাধা নিয়ে আসবে আমাদের জন্য যার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হবে স্ট্রেস বা চাপ। স্ট্রেস কথাটি সাধারণভাবে মানসিক চাপ বোঝাতে ব্যবহৃত হলেও স্ট্রেস-জনিত চাপ মন ছাড়িয়ে শরীর বা সামাজিক জীবনেও পড়তে পারে।

স্ট্রেস-এর প্রভাব আমাদের জীবনে যেভাবে পড়ে, তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় মূলত তিনভাগে ভাগ করা যায়:
১.মানসিক
২.শারীরিক
৩.সামাজিক

এছাড়াও 

স্ট্রেসের শারীরিক লক্ষণসমূহ:
– মাথা ব্যাথা
– বারবার ইনফেকশন হওয়া
– পেশী টানটান অনুভূত হওয়া
– পেশীতে খিঁচুনি
– অবসাদ
– নিঃশ্বাস আটকে যাওয়া
– স্ট্রেসের আচরণগত লক্ষণসমূহ:
– খুব বেশি দূর্ঘটনা ঘটানো
– খাবারে অরুচি
– ইনসমোনিয়া
– অস্থিরতা
– অতিরিক্ত ধূমপান করা
– অতিরিক্ত মদ্যপান করা
– যৌনতাড়না হ্রাস পাওয়া
– স্ট্রেসের আবেগ সংক্রান্ত লক্ষণসমূহ:
– আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া
– অতিব্যস্ত হওয়া
– বিরক্ত অনুভব করা
– ডিপ্রেশন
– ঔদাসিন্য
– নিজেকে অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন অনুভব করা
– কোন কিছু নিয়ে অনেক বেশি সংশয়ে থাকা
– এছাড়া স্ট্রেসে থাকলে ব্যক্তি দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ থাকে,খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয় এবং তা পরিবর্তন করে, দুঃস্বপ্ন দেখে, সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগে থাকে। 


স্ট্রেস কমাতে আমাদের করণীয় সমূহ ঃ 

মানসিক চাপ সামলানোর জন্য আমরা সকলেই কোনো না কোনো উপায় নিয়েই থাকি। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় সেই উপায়গুলিকে কোপিং স্কিল (coping skill) বলা থাকে। কোপিং স্কিল বা কঠিন পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়ার নিজস্ব পদ্ধতিগুলিকে মূলত দুভাগে ভাগ করা যায়:

ইমোশন ফোকাসড কোপিং (Emotion focused coping): বাংলায় একে আবেগজনিত মানসিক প্রক্রিয়া বলা যেতে পারে। এখানে লক্ষ্য থাকে মূলত তাৎক্ষণিক উপশম আর তার জন্য প্রয়োজনীয় আবেগের পরিবর্তন করা। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, কোনো হঠাৎ আসা মানসিক চাপে দিশাহারা অবস্থায় আমাদের প্রাথমিক প্রবৃত্তি হতে পারে সেটিকে এড়িয়ে যাওয়া বা সম্পূর্ণ অস্বীকার করা। এই প্রকার মানসিক পদ্ধতির পিছনে লক্ষ্য থাকে মূলত সেই পরিস্থিতি বা পরিস্থিতি-জনিত আবেগকে নিয়ন্ত্রণে আনা কারণ সেই জরুরি অবস্থায় সেটাই মূল লক্ষ্য হয়ে ওঠে। এই প্রক্রিয়াটি সচেতন, অর্ধচেতন বা অচেতন যে কোনো প্রকারেই হতে পারে। এই প্রকার মানসিক প্রক্রিয়ায় তাৎক্ষণিক সংকট হয়তো কাটিয়ে ওঠা যায় কিন্তু দীর্ঘকালীন ভিত্তিতে মূল সমস্যার সমাধান হয়না, বরং পরবর্তীকালে সমস্যা আরো বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

প্রব্লেম ফোকাসড কোপিং (Problem focused coping): কোপিং বা মানিয়ে নেওয়া তখনি আদতে ফলপ্রসূ হয় যখন স্ট্রেস-এর সময় স্ট্রেস-জনিত অনুভূতিকে বাদ দিয়ে কারণটিকে দেখতে আমরা সমর্থ হই এবং সেই কারণটিকে কিকরে কমানো যায় বা দূর করা যায়, তাতে মনোনিবেশ করি। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একেই প্রব্লেম ফোকাসড কোপিং বলে। অর্থাৎ, শুধু আবেগের দ্বারা চালিত না হয়ে কারণটি সমাধানের চেষ্টা করলে শেষ অব্দি অসুবিধা আর তার সাথে থাকা অনুভূতি, দুই মুশকিলেরই আসান করে। আপাতভাবে এটি সাধারণ বুদ্ধি লাগলেও স্ট্রেস-এর সময় সেটিই অনেকসময় আমাদের লোপ পায় এবং শুধুমাত্র আবেগ বা অনুভূতির বশবর্তী হয়ে বিপদ বা প্রব্লেমকে অনেকক্ষেত্রেই আরো বাড়িয়ে তুলি।

পজিটিভ হেলথ / হেলথ রিসার্ভ / পজিটিভ সাইকোলজি (positive health / health reserve / positive psychology): পজিটিভ সাইকোলজি-র ধারণাটি মনোবিজ্ঞানের জগতে ক্রমশ জায়গা করে নিতে থাকে। বিশেষত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই, যখন সাইকোলজি বা মনোবিজ্ঞানকে কেবল অসুখ বা অসুবিধের প্রতিকার হিসেবে না দেখে ব্যক্তিগত উন্নতির মাধ্যম হিসেবেও গণ্য করা হয়ে থাকে। পজিটিভ সাইকোলজি কেবল মানুষের খামতিগুলি দূর করার চেষ্টা না করে কোনো ব্যক্তিবিশেষের ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য ও সদর্থক দিকগুলিকে আরো শক্তিশালী করে তোলে। সহজভাবে পজিটিভ সাইকোলজি-র চর্চার মাধ্যমে আমরা সকলেই নিজের মানসিক ও আত্মিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারি। এক কথায়, পজিটিভ সাইকোলজি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সমস্ত সদর্থক দিকগুলি দেখতে আমাদের সাহায্য করে, যা তিনভাবে আমাদের প্রভাবিত করতে পারে:

নিজস্ব সত্ত্বার উন্নতিতে: ভালোলাগা, খুশি ও আশার মুহূর্তগুলোকে খুঁজে নিতে ও সেখান থেকে ভালোকিছু করার অনুপ্রেরণা পাওয়া

ব্যক্তিসত্ত্বার উন্নতিতে: নিজের ভালো গুণগুলি, যেমন সাহস, সৃজনশীলতা, মৌলিক দিকগুলিকে চিনে নেওয়া

বৃহত্তর সমাজের অংশ হিসেবে নিজেকে দেখা: মানবতা ও জাতীয়তা বোধ, অপরকে সাহায্য করা, কর্মোদ্যোগী হয়ে নিজেকে বহু মানুষের সাথে যুক্ত করা।

স্ট্রেস কমাতে আর কি করতে পারি আমরা?

খেলাধুলা ও কায়িক পরিশ্রম: সক্রিয়ভাবে খেলাধুলা করা এবং ঘাম-ঝরানো কায়িক পরিশ্রম যে শুধু শরীরের উপকার করে, তা নয়। আধুনিক বিজ্ঞান আজ বারবার প্রমাণ করে দিয়েছে যে পরিশ্রমের ফলে শরীরের অন্তর্নিহিত বিশেষ রাসায়নিকগুলি ক্ষরিত হতে থাকে। এদের মধ্যে এন্ডরফিন (endorphin) রাসায়নিকটি বিশেষভাবে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে কাজ করে যা আমাদের হাসি খুশি রাখতে ও স্ট্রেস-মুক্ত রাখতে সাহায্য করে। একই কথা যোগব্যায়াম-এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

ঘুম: ঘুম একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে আমাদের সকলেরই শরীর খারাপ হয়। উপযুক্ত এবং পরিমাণমতো ঘুম স্ট্রেস-কে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ঘুমের প্রয়োজন যদিও বিভিন্ন মানুষের বিভিন্নরকম, তবে দিনে ৭-৮ ঘন্টা ঘুম আমাদের সকলেরই দরকার।

নিজের পছন্দের বিষয়গুলি নিয়ে সময় কাটানো: হবি (hobby) বা শখ। অবসর বিনোদনের উপায়। যদিও আজ ২০১৭-তে এসে টিভি সিরিয়াল দেখা বা স্মার্টফোনে গেম খেলা বা সোশ্যাল মিডিয়াতে সময় কাটানোতে পরিণত হয়েছে, ‘হবি’ বা শখ শব্দটার অর্থ কিছুকাল আগেও একটু আলাদা ছিল। নাচ, গান বা কোনো বাদ্যযন্ত্র শেখা থেকে ডাকটিকিট বা সেইরকম কিছু জমানোর দিনগুলিতে যদি আবার ফিরে যাওয়া যায়, সেই আনন্দ কিন্তু স্ট্রেস কাটাতে নিঃসন্দেহে ভালো কাজ করবে।

খাদ্যাভ্যাস ও নেশা থেকে দূরে থাকা: সঠিক (গুণগত ও পরিমাণগত, দুইই) প্রকার খাবার ও সর্বনাশা নেশা থেকে দূরে থাকা স্ট্রেস-কে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখে। যেকোনো নেশার অভ্যেস সাধারণত শুরু হয় স্ট্রেস কমানোর উপায় হিসেবে, যদিও সেই নেশাই স্ট্রেস-এর কারণ হতে বেশি সময় নেয় না।

পরিবার ও বন্ধুবান্ধব: সবশেষে যা উল্লেখ করা অবশ্যই প্রয়োজন তা হলো পাশে থাকা বন্ধু বা পরিবারের লোকজন আমাদের স্ট্রেস-কে আয়ত্বে রাখতে অনেকটাই সাহায্য করে। শুধুমাত্র শুনবার কেউ বা কয়েকজন সঠিক লোক ও সম্পর্কের উষ্ণতা অনেকাংশেই আমাদের মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

আমদের দৈনন্দিন ব্যস্ত জীবনে অনেক ক্ষেত্রেই আমরা স্ট্রেসের সম্মুখীন হয়ে থাকি। এবং তা যদি আমাদের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করে  সুস্থ সুন্দর জীবনের পথের বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে একজন অভিজ্ঞ সাইকোলজিস্টের মাধ্যমে এ সমস্যা থেকে মুক্তির জন্যে পরামর্শ নিতে হবে এবং সেই সাথে সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপন করতে হবে। আর এখন আপনি চাইলে বাসায় বসেই আপনার যে কোন রোগের চিকিৎসা নিতে পারেন এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে পারেন।"Call A Doctor BD" আপনাকে দিচ্ছে সেই সকল সুবিধা সমূহ।   

স্ট্রেস এর মত সমস্যায়  বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে ফোন করুন 

DR.MD. ABDUL MOTIN
MBBS, MD(Psychiatry)
Assistant Prof.&Head.Dept. of Psychiatry (RpMCH)
BMDC REG NO: A37562
Specialty: Brain, Mental Health, Child mental health, Drug addiction, Psychosexual disorder.

এছাড়া আপনার  যেকোন সমস্যা বা রোগের লক্ষণ দেখা দিলেই আতংকিত না হয়ে আমাদের কল করুন :

☎ ০১৮৩৩৭৭৫৪৭৫
☎ ০১৮৮৬৩৫৭৭৩৩

তাছাড়া Call A Doctor BD এর জেনেরাল সার্ভিসগুলো এক নজরে,
১) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের টেলিমেডিসিন
২) বাসা থেকে বিভিন্ন টেষ্টসমূহের নমুনা সংগ্রহ
৩) মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় কাউন্সেলিং
৪) নিউট্রিশান ও ডায়েট চার্ট

তাছাড়া Call A Doctor BD এর প্রিমিয়াম সার্ভিসগুলো এক নজরে,
১) বাসায় ডাক্তার ভিজিট
২) এল্ডারলি কেয়ার
৩) নার্সিং কেয়ার

ডাক্তার সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন-
https://bit.ly/2Mo1RgT

Facebook: www.facebook.com/CallaDoctorBD/
LinkedIn: www.linkedin.com/company/call-a-doctor-bd/
Youtube: www.youtube.com/channel/UCh9dsl9XDn3fvsQtzDYkFng
Instagram: www.instagram.com/calladoctorbd.official/
Website: www.calladoctorbd.com
 

Share the post

About Author

Admin

Call A Doctor BD in short CAD BD is a healthcare start up which is planning to introduce first 360° healthcare in Bangladesh. In addition, COVID-19 pandemic actually showed us the real scenario of healthcare infrastructure of our country. Everything is going digital, CAD BD aims to provide digital healthcare with some premium home services for the customers.

Comments (0)

Leave Comment