এইডস রোগ ছড়ানোর উপায়

maro news
এইডস রোগ ছড়ানোর উপায়

এইডস রোগ ছড়ানোর উপায়

এইডস নামের মারাত্মক রোগটি বিভিন্ন ভাবে একজনের শরীর থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়িয়ে পরে। আমাদের দেশে এই রোগ ছড়ানো নিয়ে অনেক ভুল ধারনা রয়েছে। অনেকে মনে করেন এইডস রোগের হাত বা শরীর স্পর্শ করলেই অন্য ব্যক্তির এইডস হয়ে যাবে, ব্যাপারটি আসলে এমন নয়।

মূলত এই ভাইরাস শরীরের যেখানে যেখানে অবস্থান করে সেই সকল স্থান যদি অন্য ব্যক্তির সংস্পর্শে আসে তাহলে এই ভাইরাস একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এইডস রোগের জীবাণু (এইচআইভি ভাইরাস) কিভাবে ছড়ায় সেই বিষয়ে কিছু আলোচনা করা হল।


যে সকল উপায়ে এইচআইভি ভাইরাস ছড়ায়ঃ

১। রক্তের মাধ্যমেঃ নিম্নোল্লেখিত উপায়ে একজন সুস্থ্য ব্যক্তি এইচআইভি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের সংস্পর্শে এলে এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়ে পড়েঃ

        ১) শরীরে রক্তসঞ্চালন করার মাধ্যমেঃ যদি কোন ব্যক্তি নিজের শরীরে রক্ত গ্রহন করার সময় ভূলবশত এইআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত গ্রহন করে ফেলে তাহলে এই ভাইরাস প্রথম ব্যক্তির শরীরে প্রচুর পরিমানে প্রবেশ করে ও তাকে খুব সহজে আক্রান্ত করে ফেলে। এটা এত বেশি ঝুঁকিপূর্ণ যে আক্রান্ত রোগীর রক্ত নিজের শরীরে শুধুমাত্র একবার রক্তসঞ্চালনের মাধ্যমে এইচআইভি ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি ৯০%। বর্তমানে অনুন্নত বা কিছু উন্নয়নশীল দেশে রক্তসঞ্চালনের পূর্বে এইচআইভি স্ক্রিনিং টেস্ট করার যথেষ্ঠ সুযোগ সুবিধা না থাকার কারনে এই সকল দেশে রক্তসঞ্চালনের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ৫-১০% মানুষ রক্ত গ্রহন করার মাধ্যমে এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে।

        ২) আক্রান্ত রোগীর ব্যবহারকৃত সিরিঞ্জ ও সুঁই এর মাধ্যমেঃ একজন এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী যে সিরিঞ্জ ও সুঁই ব্যবহার করে শিরায় ঔষধ গ্রহন করে, সেই একই সুঁই যদি অন্য একজন সুস্থ্য ব্যক্তি ব্যবহার করে তাহলে এর মাধ্যমে এইচআইভি ভাইরাস ছড়িয়ে পরে। সাধারনত যে সকল মাদকাসক্ত ব্যক্তি শিরায় ইঞ্জেকটেবল ড্রাগ ব্যবহার করে তাদের ক্ষেত্রে একাধিক মাদকাসক্ত ব্যক্তি একই সিরিঞ্জ ও সুঁই ব্যবহার করে বলে এই ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আবার অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ রোগীর সেবা করতে গিয়ে এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত সিরিঞ্জের সুঁইয়ের খোঁচা খেয়ে এইচআইভি ভাইরাসের সংক্রমণের শিকার হয়ে পড়ে। সমগ্র এশিয়ার দেশগুলোতে ও মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের কিছু কিছু দেশে এই উপায়ে এইচআইভি ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে।

        ৩) আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষতস্থানের সংস্পর্শে আসার মাধ্যমেঃ একজন সুস্থ্য ব্যক্তি এইচআইভি বা এইডসে আক্রান্ত রোগীর শরীরের কোন গভীর ক্ষতস্থান বা শরীরের মিউকাস মেমব্রেন (Mucous Membrane) বা শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির সংস্পর্শে আসলে তখন এই ভাইরাস ঐ সুস্থ্য ব্যক্তির শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

২। যৌনমিলনের মাধ্যমেঃ

        একজন সুস্থ্য ব্যক্তি যদিএইচআইভি ভাইরাসেআক্রান্ত একজন ব্যক্তির সাথে অনিরাপদ যৌনমিলন করে তাহলে এর মাধ্যমে এই ভাইরাস ঐ সুস্থ্য ব্যক্তির শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। একাধিক সমীপে দেখা গিয়েছে যে বিশ্বজুড়ে অধিকাংশ এইচআইভি ভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে অনিরাপদ যৌনমিলনের মাধ্যমে। যোনিপথ, পায়ূপথ অথবা মুখগহ্বর যেভাবেই যৌনসঙ্গম করা হোক না কেন আক্রান্ত ব্যক্তির জননাঙ্গ থেকে নিঃসরিত তরলের মাধ্যমে এবং জননাঙ্গের কোন ক্ষতের সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে এইচআইভি ভাইরাস সুস্থ্য ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করে ও সুস্থ্য ব্যক্তিকে আক্রান্ত করে। সাব-সাহারান আফ্রিকা, সমগ্র আমেরিকা মহাদেশ, পশ্চিমা ও মধ্য ইউরোপ, দক্ষিন ও দক্ষিন-পূর্ব এশিয়া এলাকার দেশগুলোতে এই উপায়ে এইচআইভি ভাইরাসের সংক্রমণ বেশি হয়ে থাকে।

৩। আক্রান্ত মায়ের মাধ্যমেঃ

        ১) গর্ভধারনের মাধ্যমেঃ একজন গর্ভধারিণী মহিলা যদি এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়েন তাহলে তার গর্ভে থাকা অনাগত সন্তানের শরীরেও এই ভাইরাস জরায়ূর মাধ্যমে প্রবেশ করে।

        ২) শিশু প্রসব করার মাধ্যমেঃ এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত মায়ের গর্ভের সন্তান যদি গর্ভকালীন সময়ে আক্রান্ত না হয়ে থাকলেও, যোনিদার দিয়ে প্রসবের সময় ঐ সন্তান এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যায়। এটা এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে আক্রান্ত মায়ের গর্ভ থেকে জন্ম নেয়া শিশু প্রসবের সময় এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ১৫%।

        ৩) মাতৃদুগ্ধ পান করার মাধ্যমেঃ একজন এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী বা এইডসের রোগী যদি নবজাতক শিশুকে নিজের বুকের দুধ পান করান তাহলে ঐ দুধের মাধ্যমে নবজাতক শিশুর শরীরে এইচআইভি ভাইরাস প্রবেশ করে।


যেকোন শারীরিক সমস্যায় বাসায় ডাক্তার দেখাতে কল করুন 09678 446688 অথবা 01730 222227 নম্বরে। একজন অভিজ্ঞ ডাক্তার আপনার বাসায় পৌছে যাবে ৩০ থেকে৯০ মিনিটে।

Dr. Manzur Kader Azad

Dr. Manzur Kader Azad

I have completed MBBS from DNMC and CCD from BIRDEM and have post graduation training in Internal Medicine. I have completed MPH from NIPSOM under BSMMU. I have more than 9 years of multidisciplinary experience in providing healthcare to the patients.  

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register