শিশুদের টিকাদান ও এর বিভিন্ন দিক

maro news
শিশুদের টিকাদান ও এর বিভিন্ন দিক

একটি শিশুর জন্ম তার মা বাবা থেকে শুরু করে পুরো পরিবারের জন্যই একটি আনন্দের ঘটনা। এই শিশু যাতে সুস্থ, সুন্দর ও রোগমুক্ত থাকে,স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে উঠতে পারে সেদিকে সকলের লক্ষ্য রাখতে হবে। টিকা হলো শিশুর জন্য এমনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। চলুন জেনে নেই টিকা সংক্রান্ত কিছু দিক।        


যেসব টিকা দেয়া হয়ঃ
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ১০টি রোগ প্রতিরোধে বাচ্চাদের বিনামূল্যে টিকা দেয়া হচ্ছে। রোগগুলো হচ্ছে- যক্ষা, ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, টিটেনাস, হেপাটাইটিস-বি, হেমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা – বি, নিউমোনিয়া, পোলিওমায়েলাইটিস, হাম ও রুবেলা।

শিশুর টিকা কখন দিতে হবে ?
মনে রাখতে হবে, বাচ্চাকে সবগুলো টিকা দিতে হলে কমপক্ষে ৬ বার টিকাকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।

শিশুকে টিকা দেওয়ার সময়সূচি ঃ

F1wYiSKIQCqYK6WZoqwYEKgp2slmdkteJx5zAYhGBtBDd2e0okWTDsW37l0HPujanirgSGKW8LevZAyTqyGDX26KYg3EXmYcbYtYJBWzSrRBjC4g6HRjiFwDqV_Qyvt4IpGZ1rCAjBVQY3B0yw
* ওপিভি টিকা মোট ৪ (চার) ডোজ দিতে হবে। ৪র্থ ডোজটি এমআর টিকার সাথে দিতে হবে। এছাড়াও জন্মের ১৪ দিনের মধ্যে ওপিভির অতিরিক্ত ডোজ দেয়া যেতে পারে।

কোন রোগের কোন টিকা ঃ
প্রথমত, যে টিকা টি বাচ্চার জন্মের সাথে সাথেই দেয়া হয় তা হচ্ছে বিসিজি। এটি যক্ষা রোগের বিরুদ্ধে দেয়া হয়। বাচ্চার বাম হাতে চামড়ার ভিতরে এই টিকা দেয়া হয়। মনে রাখবেন, এই টিকা দিলে টিকার স্থানে সামান্য ঘা হয়ে পেকে যাবে। আর এই ঘা না হলে ধরে নিতে হবে, টিকা কার্যকর হয়নি। সেক্ষেত্রে এই টিকা বাচ্চাকে আবার দিতে হবে। টিকার দেয়ার পরে শিশুর সামান্য জ্বর আসতে পারে। এতে ভয়ের কিছু নেই। জ্বর ১০১ডিগ্রী এর বেশি হলে স্বাস্থ্যকর্মী অথবা ডাক্তারকে ফোন দিয়ে পরামর্শ গ্রহণ করুন। এছাড়াও জন্মের পর পর বা ১৪ দিনের মদ্ধে শিশুকে পোলিও টিকার ডোজ বা ওপিভি দেয়া হয়।

বাচ্চার বয়স ৪২ দিন বা ছয় সপ্তাহ হলেই তাকে ২য় ডোজ টিকা দেয়ার জন্য টিকা কেন্দ্রে নিয়ে আসুন। ৪২ দিন বয়সে বাচ্চাকে ২ ফোঁটা পোলিও টিকা বা ওপিভি  মুখে খাওয়ানো হয়। এর সাথে সাথে ডান পায়ে নিউমোনিয়ার টিকা পিসিভি দেয়া হয়। আর বাম পায়ে দেয়া হয় আর একটি টিকা যা পেন্টাভ্যালেন্ট ভ্যাকসিন নামে পরিচিত।আসলে, বাম পায়ের টিকা টি একটি ইঞ্জেকশন হলেও এটি পাঁচটি রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে।রোগ গুলো হচ্ছে- ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস-বি, হেমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা- বি।

টিকা
উপরোক্ত টিকাগুলো সরকারি ভাবে টিকাদান কেন্দ্রগুলিতে নিয়মিত প্রদান করা হয়।

এ সব টিকা ছাড়া অন্যান্য রোগের জন্য আরও কিছু টিকা আছে, যেগুলো সরকারিভাবে দেওয়া হয় না। যেমন- রোটা ভাইরাস ডায়েরিয়া, টাইফয়েড, ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা ইত্যাদি।



রোটা ভাইরাস ডায়েরিয়ার দুই ডোজ টিকা শিশুর ২ মাস এবং ৪ মাস বয়সে (Rotarix) অথবা তিন ডোজ টিকা শিশুর ২ মাস, ৪ মাস এবং ৬ মাস বয়সে (Rota Teq) দিতে হয়।

টাইফয়েডের টিকা দিতে হয় ২ বছর বয়সে। এরপর প্রতি ২ বছর পর বুস্টার ডোজ দিতে হয়।

ইনফ্লুয়েঞ্জার ক্ষেত্রে ৮ বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য ১ম বছরে দুই ডোজ (৬ মাসের ব্যবধানে) টিকা দিতে হয়। এরপর প্রতি বছর একটি করে ডোজ দিতে হয়।

হেপাটাইটিস এ প্রতিরোধে শিশুর ১ বছর বয়সের পর দুইটি টিকা দেওয়া যায় (৬ মাসের ব্যবধানে)।

মেনিঙ্গকক্কাল মেনিনজাইটিস, ভেরিসেলা, কলেরা রোগের টিকা তেমন একটা দেওয়া হয় না। তবে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে এই সব টিকা দেওয়া যেতে পারে।

শিশুর টিকার সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং করনীয় ঃ
বিসিজি টিকা
বিসিজি টিকা দেওয়ার ২ সপ্তাহ পর টিকার স্থান লাল হয়ে ফুলে যাবে এবং আরো ২/৩ সপ্তাহ পরে শক্ত দানা, ক্ষত বা ঘা হতে পারে। ধীরে ধীরে এই ক্ষত বা ঘা শুকিয়ে যাবে এবং দাগ থাকবে। অন্য টিকার ক্ষেত্রে হাল্কা তাপমাত্রা অথবা শরীর ব্যথা হতে পারে যা খুবই সাধারণ।      

কখন টিকা দেওয়া যাবে?
প্রায় সকল অবস্থায়ই শিশুর টিকাদেয়া যায়। শিশুর টিকা দিলে যে সামান্য জ্বর বা ব্যথা হয় তার চেয়ে টিকা না দিয়ে রোগাক্রান্ত হওয়া অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ।অপুষ্টিতে ভুগছে এমন শিশুকে অবশ্যই টিকা দিতে হবে। এই সব শিশুর দেহে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা কম থাকে। সুতরাং তার প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করার জন্যই টিকা দেয়া বেশি জরুরি।

পূর্বে শরীরে কোনো দানা উঠে থাকলে অথবা অতীতে হাম/রুবেলা হয়ে থাকলেও সেই শিশুকে ৯ মাস বা ২৭০ দিন পূর্ণ হলে ১ ডোজ এমআর টিকা এবং ১৫ মাস বয়স পূর্ণ হলে হামের ২য় ডোজ টিকা দিতে হবে।

কখন টিকা দেয়া যাবে না?
কেবলমাত্র নিম্নেউল্লেখিত কারণগুলোতেই টিকা দেয়া যাবে না

খুব বেশী অসুস্থ শিশুকে টিকা দেয়া যাবে না।
পূর্ববর্তী পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা দেয়ার পর শিশুর খিঁচুনি বা অজ্ঞান হলে পরবর্তী পেন্টাভ্যালেন্ট টিকার ডোজ দেয়া যাবে না। এই ক্ষেত্রে পেন্টাভ্যালেন্ট টিকার বদলে ১ ডোজ টিটি টিকা দিতে হবে এবং শিশুকে অন্যান্য সকল টিকা (ওপিভি, এমআর, হাম) নিয়ম অনুযায়ী দিতে হবে।
পূর্ববর্তী টিকা দেয়ার পর কোনো মারাত্বক পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হলে পরবর্তী টিকা দেয়ার পূর্বে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে

কোথায় টিকা দিবেন?
বাংলাদেশের সর্বত্র টিকাদান কার্যক্রম চলছে সরকারীভাবেই। আপনার নিকটস্থ সদর হাসপাতাল, উপজেলা হাসপাতাল,কমিউনিটি ক্লিনিক অথবা ক্ষেত্র বিশেষ কোন কোন প্রইভেট ক্লিনিকে খোঁজ নিলেই জেনে নিতে পারবেন কখন কখন সেখানে টিকা দেয়া হয়। টিকাদান কর্মসূচী সম্বলিত সাইনবোর্ড এ টিকাদান কর্মীর  নাম, মোবাইল নাম্বার ও টিকাদানের তারিখ লেখা থাকে।

লক্ষ্য রাখতে হবে ঃ
একই টিকার দুই ডোজের মধ্যে কমপক্ষে ২৮ দিনের বিরতি থাকতে হবে।
একই দিনে একাধিক টিকা দিলে কোনো সমস্যা নেই।
কোনো কারণে তারিখ পার হয়ে গেলে পোলিও, ডিপিটি, হেপাটাইটিস বি তারিখের অনেক পরে এমনকি এক বছর পরে দিতেও সমস্যা নেই।
পোলিও টিকা মুখে খেতে হয় বলে ডায়রিয়া থাকলে শিডিউলের ডোজ খাওয়ানোর পর ২৮ দিন   বিরতিতে একটি অতিরিক্ত ডোজ খাওয়ানো হয়।
বিসিজি টিকা দেয়ার এক মাসের মধ্যে টিকার স্থানে ক্ষত হয়, এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
ছোটখাটো সামান্য অসুস্থতা যেমন: জ্বর, বমি, ডায়রিয়া ইত্যাদি কারণে টিকাদান স্থগিত করার কারণ নেই। তবে মারাত্মক অসুস্থ শিশু, খিঁচুনি হচ্ছে এমন শিশু এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল শিশুর টিকা দেয়া উচিত নয়।
নবজাতকের সুস্থতার জন্য ই পি আই থেকে অত্যাবশ্যকীয় টিকাগুলো দেয়ানোর পাশাপাশি বাকি টিকাগুলোও বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে সময়মতো দিয়ে দেয়া উচিত। আদরের সন্তান ভালো থাকুক সচেতনতায় আর সুস্থতায়।


যেকোন শারীরিক সমস্যায় বাসায় ডাক্তার দেখাতে কল করুন 09678 446688  অথবা 01730 222227 নম্বরে। একজন অভিজ্ঞ ডাক্তার আপনার বাসায় পৌছে যাবে ৩০ থেকে ৯০ মিনিটে।

Dr. Farjina Yeasmeen

Dr. Farjina Yeasmeen

I am Dr. Farjina Yeasmeen. I have completed my MBBS under CU. I have experience of working in Gynae and Obstetrics.I have also worked in a renowned garments factory and have experience of dealing with different patients. I am energetic and positive.  

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register