কনজাংটিভাইটিস বা চোখ ওঠা

maro news
কনজাংটিভাইটিস বা চোখ ওঠা

কনজাংটিভাইটিস বা চোখ উঠা একটি পরিচিত চোখের সমস্যা। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যে কোনো বয়সের মানুষ এই রোগটিতে আক্রান্ত হতে পারেন। সারা বছর আক্রান্ত হওয়ার সুযোগ থাকলেও গরমে চোখ উঠার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়। সংক্রামক হওয়ায় পরিবারের একজন সদস্য আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যদেরও আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি। আমাদের চোখের সাদা অংশটুকু একটা পাতলা পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে- যার নাম কনজাংটিভা। এই কনজাংটিভায় যখন বিভিন্ন কারণে সংক্রমণ হয় তখন সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলো লালচে হয়ে উঠে এবং চোখ লাল দেখায়। এছাড়া চোখ দিয়ে পানি পড়া, চুলকানি, হলদেটে নিঃসরণ কিংবা আলোক সংবেদনশীলতা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা যায়। বিভিন্ন কারণে এই কনজাংটিভাইটিস হতে পারে।চলুন জেনে নেই বিভিন্ন প্রকার  কনজাংটিভাইটিস সম্পর্ক।

১. ব্যাকটেরিয়াজনিত কনজাংটিভাইটিসঃ
এটি  সাধারণত: বিভিন্ন ধরণের ব্যাকটেরিয়া দ্ব্বারা সংঘটিত হয়। এ ধরণের কনজাংটিভাইটিসে চোখ লাল হয়, চোখের কোনে পিচুটি বা ময়লা জমে, সকালে ঘুম থেকে উঠার সময় চোখের দুই পাতা একত্রে লেগে যায়, চোখে আলো সহ্য হয় না। সাধারণত: উভয় চোখ আক্রান্ত হয়। কর্ণিয়াতে ঘা, চোখের পাতায় প্রদাহ ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়াজনিত কনজাংটিভাইটিসের জটিলতা হিসাবে দেখা দেয়।
চিকিত্সাঃ দিনের বেলায এন্টিবায়োটিক ড্রপ ও রাত্রে এন্টিবায়োটিক মলম ব্যবহার করতে হবে। পরিস্কার তুলা বা ন্যাকড়া দিয়ে চোখের পিচুটি পরিষ্কার করতে হবে।


২. অফথালমিয়া নিওনেটোরাম (নবজাতকের কনজাংটিভাইটিস)
শিশুর জন্মের পর হতে প্রথম চার সপ্তাহের মধ্যে যে কনজাংটিভাইটিস হয় তাকে অফথালমিয়া নিওনেটোরাম বলে। আমাদের দেশে গনকক্কাস নামক ব্যাকটেরিয়া এই রোগের প্রধান কারণ। তাছাড়া ভাইরাস ও অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া দ্ব্বারাও এ রোগ হতে পারে। এ রোগে শিশুর চোখে প্রচুর পিচুটি বা ময়লা হয়। পিচুটি দিয়ে শিশুর চোখের দুই পাতা লেগে থাকে। ফলে চোখের পাতা সহজে খোলা যায় না। চোখ ফুলে যায়। এ রোগের জটিলতা হিসাবে কর্ণিয়াতে ঘা এমনকি কর্ণিয়াতে ছিদ্র হয়ে যেতে পারে। সময় মত সঠিক চিকিত্সা না করালে শিশু অন্ধ হয়ে যেতে পারে।
চিকিত্সা: শিশুর চোখ পরিষ্কার করতে হবে। পরিষ্কার তুলা দিয়ে এবং প্রয়োজনে ফুটিয়ে নেয়া ঠান্ডা পানিতে তুলা ভিজিয়ে চোখের পিচুটি পরিষ্কার করে দিতে হবে। আক্রান্ত শিশুর চোখের পাতা কোন অবস্থাতে যাতে পিচুটি দিয়ে আটকিয়ে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শিশুর চোখ পরিষ্কার করে ঘন ঘন এন্টিবায়োটিক ড্রপ ও মলম ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে শিরাতে এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন দেয়া যেতে পারে।

৩. ভাইরাসজনিত কনজাংটিভাইটিস: ভাইরাসজনিত কনজাংটিভাইটিসের প্রকোপ আমাদের দেশে বেশী দেখা যায়। এই রোগে সব বয়সের লোক আক্রান্ত হয়। এ রোগে চোখ লাল হয়, চোখ দিয়ে পানি পড়ে, চোখ খচ খচ করে, চোখ জ্বালা পোড়া করে। আলোতে অস্বস্থি লাগে। এডিনোভাইরাসজনিত কনজাংটিভাইটিসে সাধারণত: উভয় চোখ আক্রান্ত হয়। চোখে সাধারণত: পিচুটি বা কেতর হয় না। এডিনোভাইরাস দ্ব্বারা কনজাংটিভাইটিস হলে কানের সামনের লসিকা গ্রন্থি ফুলে যায় ও চাপ দিলে ব্যথা হয়। হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাসজনিত কনজাংটিভাইটিসে সাধারণত: এক চোখ আক্রান্ত হয়। তবে উভয় চোখও আক্রান্ত হতে পারে।
হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাসজনিত কনজাংটিভাইটিসে কর্ণিয়া আক্রান্ত হতে পারে। কর্ণিয়াতে সাদা দাগ পড়তে পারে, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যেতে পারে।
চিকিত্সা: চোখে এন্টিবায়োটিক ড্রপ ও মলম ব্যবহার করতে হবে। এডিনোভাইরাসজনিত কনজাংটিভাইটিস সাধারণত: দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়। চোখের কর্ণিয়াতে প্রদাহ হলে চোখে এন্টিভাইরাল মলম ব্যবহার করতে হবে। কখনো কখনো টপিকাল স্টেরয়েডও দরকার হতে পারে।


৪. এলার্জিক কনজাংটিভাইটিস
এ রোগ দেহের ভিতরের বা বাহিরের কোন এলার্জির কারণে হয়ে থাকে। বাহিরের এলার্জেনের মধ্যে রয়েছে ফুলের পরাগ, ধূলা-বালি ইত্যাদি। ভিতরের এলার্জেনের মধ্যে রয়েছে কোন সংক্রামিত স্থানের জীবাণুর অংশবিশেষ, বিশেষত স্ট্যাফাইলোকক্কাস। এ রোগে চোখ ভীষণ চুলকায়, চোখ লাল হয়, চোখ দিয়ে পানি পড়ে এবং কনজাংটিভার কেমোসিস হয়।
চিকিত্সা: টপিকাল এন্টিহিস্টামিন, মাস্ট সেল স্ট্যাবিলাইজার বা স্বল্প মাত্রার টপিকাল স্টেরয়েড দ্ব্বারা এ রোগ চিকিত্সা করা হয়। এলার্জি সৃষ্টিকারী বস্তু হতে দূরে থাকতে হবে।


কনজাংটিভাইটিস একটি অস্বস্তিকর সমস্যা। এই সময় চোখে কন্টাক্ট লেন্স বা কোনো ধরনের কসমেটিকস ব্যবহার করা উচিত নয়। তাছাড়া আলোক সংবেদনশীলতার জন্য সানগ্লাস পড়া আরামদায়ক। তবে এটি খুব সংক্রামক হওয়ায় চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিত।


যেকোন শারীরিক সমস্যায় বাসায় ডাক্তার দেখাতে কল করুন 09678 446688  অথবা 01730 222227 নম্বরে। একজন অভিজ্ঞ ডাক্তার আপনার বাসায় পৌছে যাবে ৩০ থেকে ৯০ মিনিটে।

Dr. Farjina Yeasmeen

Dr. Farjina Yeasmeen

I am Dr. Farjina Yeasmeen. I have completed my MBBS under CU. I have experience of working in Gynae and Obstetrics.I have also worked in a renowned garments factory and have experience of dealing with different patients. I am energetic and positive.  

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register