ভুলে যাওয়া যখন ব‍্যাধি

maro news
ভুলে যাওয়া যখন ব‍্যাধি

            

ইদানীং প্রায়শই বাবা জিনিসপত্র হারাচ্ছে। আজ ঘড়ি, তো কাল চশমা। মোবাইল নম্বরপরিচিত  লোকজন এর নাম প্রায়ই গড়বড় করে ফেলছেন। সবচেয়ে বড় ঝামেলা টা হলো যেদিন বাবা বাসার ঠিকানা ভুলে গিয়ে অনেক রাত অব্ধি বাইরে থাকলেন।


The Notebook সিনেমা টার কথা কি মনে আছে কারও?  অই যে বুড়ো নায়ক যেখানে রোজ ডায়েরী পড়ে শোনায় নায়িকাকে তাদের সোনালি দিনের কথা মনে করিয়ে দেয়ার জন‍্য।


দুটো ঘটনারর মাঝে কোথাও কি মিল খুঁজে পাচ্ছেন
?  এই দুই অসহায় মানুষ এর মত আমাদের চারপাশে,  এমনকি আমাদের নিজেদের পরিবারেও হয়ত এমন ভুক্তভোগি রয়েছেন। শুধুমাত্র ভুলে যাওয়াটাই যাদের স্বাভাবিক জীবন কে অনেক টাই কঠিন করে তুলেছে।


এই ভুলে যাওয়া কি আসলেই কোন রোগ?

সাধারণত বয়সের সাথে মানবদেহের অন‍্য সব অংগের মতো মস্তিষ্কও কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষত পঞ্চাশ এর পর থেকে চিন্তাশক্তি কমে যাওয়া, স্মৃতিশক্তি দু`বল হয়ে আসাকাজের গতি কমে যাওয়া এসব লক্ষণ স্বাভাবিক ভাবেই দেখা দেয়। কিন্তু যদি এসব সমস্যা নিত‍্যদিনের কাজ কর্মকে,স্বাভাবিক জীবন কে বাধাগ্রস্ত করে তখনি তা রোগ বলে গণ‍্য হয়। চিকিৎসাশাস্ত্রে যা Alzheimer's Disease নামে পরিচিত।


সাধারণত জিনগত কারণমাথায় আঘাত পাওয়া, বিষন্নতাউচ্চ রক্তচাপ এই রোগ এর অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।

লক্ষণ : এই সব রোগিদের ক্ষেত্রে রোগের লক্ষণ এর প্রকাশ এর মাত্রাগত তারতম্য দেখা যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এদের মাঝে লক্ষণ গুলো ধীরে ধীরে প্রকাশ হতে থাকে। সমসাময়িক ঘটনাবলি মনে রাখতে না পারাহঠাত করে কাউকে চিনতে না পারানাম ভুলে যাওয়া,  ঘন ঘন মুড পরিব`তন হওয়াআত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া এগুলো এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণ। সময়ের সাথে সাথে রোগির স্বাভাবিক জীবন যাপন কঠিন হয়ে পারে। ধীরে ধীরে তারা সামাজিক জীবন যাপন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়।


চিকিৎসা : এই রোগের যথাযথ কোন চিকিৎসা এখনো আবিষ্কার হয়নি। তবে কিছু ওষুধ এর দ্বারা অনেকাংশে রোগের লক্ষণ গুলো নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। এই রোগের ক্ষেত্রে প্রধান ভুমিকা পালন করতে হবে পরিবারকে। রোগির দিকে যথাযথ খেয়াল রাখা, তার প্রাত্যহিক কাজকর্ম গুলোতে সহায়তা করানিয়মিত ওষুধ সেবন করার দিকে লক্ষ‍্য রাখার মাধ‍্যমে অনেকাংশে স্বাভাবিক জীবন যাপন সম্ভব। খেয়াল রাখতে হবে রোগি যেন কখনো একাকীত্ব বোধ না করে। বিশেষ ক্ষেত্রে তাদের জন‍্য সার্বক্ষণিক দেখা শোনার লোক নিয়োগ করতে হবে।

জরাবার্ধক্য জীবনের স্বাভাবিক ধারা। এক সময়ের দো`দন্ড প্রতাপশালী ব‍্যক্তিও সময়ের স্রোতে,বয়সের ভারে নুব্জ হয়ে পড়েন। আলঝেইমার্স নামক নিরব ঘাতক যাতে তাদের শেষ বয়সটা অসহনীয় না করে তোলে সেদিকে খেয়াল রাখাই আমাদের দায়িত্ব।

ভালো থাকুক জীবনসায়াহ্নে আসা মানুষ গুলো, যারা তাদের স্নেহ, মায়া, মমতা দিয়ে আগলে রেখেছিলেন আমাদের।

 

Dr. Farjina Yeasmeen

Dr. Farjina Yeasmeen

I am Dr. Farjina Yeasmeen. I have completed my MBBS under CU. I have experience of working in Gynae and Obstetrics.I have also worked in a renowned garments factory and have experience of dealing with different patients. I am energetic and positive.  

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register