জন্মনিয়ন্ত্রক পিল নিয়ে প্রয়োজনীয় কিছু কথা

maro news
জন্মনিয়ন্ত্রক পিল নিয়ে প্রয়োজনীয় কিছু কথা

পৃথিবির অনান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ সহ এশিয়ার আশে পাশের দেশ গুলোতে জন্মহার তুলনামুলক ভাবে বেশি। এই বেড়ে যাওয়া জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনের জন্য সরকার এবং বিভিন্ন বিদেশী এন জি ও নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। এই পদক্ষেপ গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো জনগনদেরকে শিক্ষিত করা এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। বর্তমানের দম্পত্তিরা নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়ে অনেক বেশি সচেতন। তবে এই ঝোকটা শহরেরে দিকে তুলনামুলক ভাবে বেশি।  গ্রামে এখনো মেয়েদের জলদি বিয়ে দিয়ে দেয়া হচ্ছে এবং জন্মহারের মাত্রাটাও বেশি। নতুন দম্পত্তিরা তাদের দাম্পত্য জীবন গুছিয়ে নেয়ার সাথে সাথে নতুন দাম্পত্য উপভোগের জন্য দেরী করে বাচ্চা নিতে চান। আবার অনেকেই প্রথম বাচ্চা এবং দ্বিতীয় বাচ্চার মাঝে বেশ কিছু সময়ের ব্যাবধান রাখতে চান। এর পেছনে ব্যস্ততা সহ বিভিন্ন বিষয় পরিচায়ক হিসেবে কাজ করে। দম্পত্তিরা নিজেদের পছন্দমত সময়ে বাচ্চা নিতে পারে সে জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে বর্তমানে। এর মধ্যে বহুল প্রচলিত হলো জন্মনিরোধক  পিল। আজকের আলোচনা এই পিল ও এর বিভিন্ন দিক নিয়ে।


পিল খাওয়ার নিয়মঃ  

সাধারণত পিরিয়ডের প্রথম দিন থেকে পঞ্চম দিনের মধ্যে যে কোনও দিন পিল খাওয়া শুরু করা যেতে পারে। প্রতিদিন রাত্রে খাবার খাওয়ার পর নির্দিষ্ট পিলটি খেতে হবে। পর পর ২১ দিন খেতে হবে। তারপর এক সপ্তাহ বন্ধ রেখে আবার নতুন প্যাকেট শুরু করতে হবে।

কোন একদিন ভুলে গেলে পরদিন দুটো পিল খেতে হবে। বর্তমানে বাজারে ২১ প্লাস ৭ ও ২৪ প্লাস ৪টি পিলেরও প্যাকেট পাওয়া যায়৷ এর সুবিধা হচ্ছে মনে রাখার বা ভুলে যাওয়ার কোন ব্যাপর থাকে না।

২৮ দিন পর পর নতুন প্যাকেট শুরু করলেই হল৷  বাচ্চা নিতে ইচ্ছুক নারীদের ক্ষেত্রে ৩-৪ মাস আগে থেকে পিল খাওয়া বন্ধ করে দিতে হয়। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কোন ধরনের পিল খাওয়া উচিত তা ঠিক করে নেয়া ভালো। তাহলে নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়ানো যায়।

কাদের জন্য পিল প্রযোজ্য নয়:
১/ ৪০ উর্ধ্ব মহিলাদের জন্য পিল প্রযোজ্য নয়। এতে হৃদরোগের সম্ভাবনা থাকে।

২/  সদ্য মা হওয়া মহিলাদের ইসট্রোজেনের মাত্রা বেশি এমন পিল খাওয়া উচিত নয়। এতে বুকের দুধ কমে যেতে পারে।

৩/ যেসব মহিলাদের মাইগ্রেনের সমস্যা আছে

৪/ যেসব মহিলার রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি

৫/ যাদের ডায়াবেটিস আছে

৬/ উচ্চ-রক্তচাপে ভুগছেন এমন মহিলাদের

৭/ যাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে


পিল খাওয়ার সুবিধাসমূহ ঃ

 জন্মনিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পিলের নানা সুবিধা রয়েছে। যেমন­:

১/ যাদের অনিয়মিত পিরিয়ড, তাদের পিরিয়ড নিয়মিত হয়।
২/ তলপেটের প্রদাহ, ব্রেস্টের কিছু রোগ, সিস্ট ইত্যাদি পিল গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা যায়।
৩/ পিল গ্রহণের মাধ্যমে পিরিয়ডবিহীন ছুটি কাটানো অথবা রমজান মাসে টানা একমাস রোজা রাখায় কোন সমস্যার সৃষ্টি হয় না।
৪/ নিয়মিত পিল ব্যবহারে ওভারিয়ান সিস্ট, অ্যানিমিয়া, আর্থ্রাইটিস, এটোপিক প্রেগনেন্সি, যৌনাঙ্গে প্রদাহজনিত রোগ ইত্যাদির সম্ভবনাকে কমিয়ে দেয়।
৫/ যাদের ব্রণের সমস্যা আছে তাদের জন্য ওরাল কনট্রাসেপটিভ পিল উপকারী।

পিল খেলে যেসব সমস্যা হতে পারেঃ


১/ বিষণ্নতা বা ডিপ্রেশনে ভুগতে থাকা
২/ মাথা ব্যথা হওয়া
৩/ মেজাজ খিটখিটে হওয়া
৪/ বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়া
৫/ ওজন বেড়ে যাওয়া
৬/ চোখে দেখার অসুবিধা বা ঝাপসা দৃষ্টি
৭/ ব্রেস্টে ব্যথা
৮/ পিরিয়ডবিহীন রক্তপাত
৯/ পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যাওয়া
১০/ প্রতিদিন একই সময় পিল খেতে হয়
১১/ ৩ বছরের বেশি পিল খেলে গ্লুকোমা হয়
১২/ টেনশন
১৩/ তলপেটে ব্যথা।


পিল খাওয়ার পরেও যে সব কারনে গর্ভধারণ হতে পারেঃ


১. নিয়মমতো পিল না খেলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা থেকে যায়। ।
২. প্রতিদিন সঠিক সময়ে পিল না খেলে পিলের কার্যক্ষমতা কমে যায় ।
৩. কিছু বিশেষ চিকিৎসা পদ্ধতির জন্য  পিল কাজ করে না। যেমন- টিউবারকুলোসিসের জন্য রিফাডিন চিকিৎসা, গ্রিসেওফালভিনের জন্য অ্যান্টি-ফানগাল ড্রাগ ইত্যাদির ক্ষেত্রে পিল কার্যকারিতা হ্রাস পায়।  

৪. কোনো হার্বাল সাপ্লিমেন্টের কারণে গর্ভনিরোধক পিলের কার্যকারিতা নষ্ট হতে পারে।

পিল খাওয়ার পূর্বে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিতঃ


প্রথম সন্তান নেয়ার আগে পিল না খাওয়াই ভালো। তাতে পরবর্তীতে সন্তান ধারণে মারাত্মক সমস্যা হতে পারে। একটি সন্তানের পর দীর্ঘদিন পিল খেলে পরবর্তীতেও সন্তান ধারণে জটিলতা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও ওজন বেড়ে যাওয়া সহ নানা রকম শারীরিক সমস্যার উপসর্গ দেখা দিতে পারে পিল সেবনে।


পরিবার পরিকল্পনা ও এই সংক্রান্ত দুশ্চিন্তা থেকে আধুনিক নারীদের অনেক খানি মুক্তি দেয় জন্মনিরোধক পিল। তবে অবশ্যই যথাযথ মাত্রায় প্রত্যেক নারীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী তার জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত। এতেই সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ পরিবার পরিকল্পনা সম্ভব।      


যেকোন শারীরিক সমস্যায় বাসায় ডাক্তার দেখাতে কল করুন 09678 446688  অথবা 01730 222227 নম্বরে। একজন অভিজ্ঞ ডাক্তার আপনার বাসায় পৌছে যাবে ৩০ থেকে ৯০ মিনিটে।

        

Dr. Farjina Yeasmeen

Dr. Farjina Yeasmeen

I am Dr. Farjina Yeasmeen. I have completed my MBBS under CU. I have experience of working in Gynae and Obstetrics.I have also worked in a renowned garments factory and have experience of dealing with different patients. I am energetic and positive.  

0 Comments.

leave a comment

You must login to post a comment. Already Member Login | New Register